- সরিষাবাড়ীতে যুবদল নেতার দাপটে গাছ কর্তন ও বাউন্ডারি ভাঙচুরের অভিযোগ - April 16, 2026
- সরকারি অবহেলায় বিপন্ন জনস্বাস্থ্য জলাতঙ্কের টিকা নিশ্চিত করুন - April 16, 2026
- টাঙ্গাইলের মধুপুরে ‘বি নিউজ মিডিয়া’র পঞ্চম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত - April 11, 2026

নিজস্ব প্রতিবেদক, গোপালপুর (টাঙ্গাইল),
টাঙ্গাইলের গোপালপুরে গরুর মাংসের নামে বিক্রির উদ্দেশ্যে গভীর রাতে ঘোড়া জবাইয়ের চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটেছে। উপজেলার ধোপাকান্দি ইউনিয়নের চোরের ভিটা গ্রামে মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) রাত আনুমানিক ২টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। জবাইকৃত ঘোড়ার মাংস প্যাকেটজাত করার সময় এলাকাবাসী ঘেরাও করে চারজনকে হাতেনাতে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করেছে।
যেভাবে ধরা পড়ল চক্রটি: স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, চোরের ভিটা গ্রামের হাফিজুর রহমানের বাড়িতে গভীর রাতে ‘গরু জবাই’ হচ্ছে—এমন খবর ছড়িয়ে পড়লে এলাকাবাসীর মনে সন্দেহ জাগে। পরে তারা সংঘবদ্ধ হয়ে ওই বাড়িতে গিয়ে দেখতে পান, সেখানে গরু নয়, বরং অন্তত ৮টি ঘোড়া জবাই করা হয়েছে। এর পাশাপাশি আরও কয়েকটি ঘোড়া জীবিত অবস্থায় সেখানে বেঁধে রাখা হয়েছে এবং অত্যন্ত তড়িঘড়ি করে জবাইকৃত ঘোড়ার মাংস প্যাকেটজাত করা হচ্ছে।
এ দৃশ্য দেখে ক্ষুব্ধ জনতা সঙ্গে সঙ্গে বাড়িটি ঘেরাও করে এবং চারজনকে হাতেনাতে ধরে ফেলে। তবে অবস্থা বেগতিক দেখে মূল হোতা ও বাড়ির মালিক হাফিজুর রহমান এবং তার পরিবারের সদস্যরা কৌশলে পালিয়ে যায়। ঘটনাস্থল থেকে জবাইকৃত ঘোড়ার বিভিন্ন অংশ এবং মাংস প্যাকেটজাত করার সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়েছে।
দীর্ঘদিনের সন্দেহ ও প্রতারণা: আটককৃত চারজন প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানিয়েছে, তাদের সবার বাড়ি রংপুর জেলায়। স্থানীয়দের অভিযোগ, একটি অসাধু চক্র দীর্ঘদিন ধরেই এই এলাকায় গরুর মাংসের কথা বলে প্রতারণামূলকভাবে ঘোড়ার মাংস বিক্রি করে আসছিল। এর আগেও জনমনে এমন সন্দেহ সৃষ্টি হয়েছিল, কিন্তু সুনির্দিষ্ট প্রমাণের অভাবে চক্রটিকে ধরা সম্ভব হয়নি। এবার হাতেনাতে ধরা পড়ার পর পুরো এলাকাজুড়ে তীব্র ক্ষোভ ও আতঙ্ক বিরাজ করছে।
পুলিশের পদক্ষেপ ও তদন্ত: খবর পেয়ে রাতেই গোপালপুর থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেয় এবং আটক চারজনকে থানায় নিয়ে যায়। ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে পুলিশ জানায়, ঘটনাটি জনস্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক হুমকিস্বরূপ।
গোপালপুর থানার দায়িত্বরত এক কর্মকর্তা জানান, “ঘটনাটি আমরা অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করছি। জবাইকৃত ঘোড়ার মাংস ঠিক কোথায় কোথায় সরবরাহ করা হতো এবং এই চক্রের সঙ্গে আর কারা জড়িত রয়েছে—সেসব বিষয় গভীরভাবে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
খাদ্য নিয়ে এ ধরনের ভয়ংকর প্রতারণার ঘটনায় দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন মহল। পাশাপাশি ভবিষ্যতে এ ধরনের অপরাধ ঠেকাতে প্রশাসনের নিয়মিত ও কঠোর নজরদারির আহ্বান জানিয়েছেন তারা।

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.