অবিশ্বাস্য হলেও সত্য: মধুপুরে বানরের খাবার খাচ্ছেন বন কর্মকর্তারা, খাদ্যাভাবে সড়কে পিষ্ট হচ্ছে নিরীহ প্রাণী

নিজস্ব প্রতিবেদক, মধুপুর (টাঙ্গাইল): অবিশ্বাস্য হলেও সত্য, টাঙ্গাইলের মধুপুর জাতীয় উদ্যানের (মধুপুর গড়) বানরের জন্য বরাদ্দকৃত খাবার চলে যাচ্ছে বন বিভাগের কিছু অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারীর পেটে! খাদ্যাভাবে তীব্র কষ্টে থাকা ক্ষুধার্ত বানরগুলো খাবারের সন্ধানে প্রতিদিন ছুটে আসছে ব্যস্ততম ময়মনসিংহ-টাঙ্গাইল মহাসড়কে। আর পথচারীদের ছুঁড়ে দেওয়া খাবার খেতে গিয়ে দ্রুতগামী যানবাহনের চাকায় পিষ্ট হয়ে প্রতিনিয়ত প্রাণ হারাচ্ছে নিরীহ এই বন্যপ্রাণীরা।

সরেজমিনে দেখা যায়, প্রতিদিন ময়মনসিংহ-টাঙ্গাইল সড়ক দিয়ে যাতায়াতকারী অসংখ্য মানুষ দয়া করে চলন্ত গাড়ি থেকে রাস্তায় কলা, পাউরুটি, বিস্কুটসহ নানা খাবার ছুঁড়ে দেন। বনের ভেতরে খাবার না পেয়ে ক্ষুধার্ত বানরের দল সেই খাবারের আশায় রাস্তায় নেমে আসে। আর ঠিক তখনই মর্মান্তিক দুর্ঘটনার শিকার হয়ে গুরুতর আহত ও নিহত হচ্ছে অসংখ্য বানর।

স্থানীয় এলাকাবাসী ও সচেতন মহলের গুরুতর অভিযোগ, মধুপুর জাতীয় উদ্যানের বানর ও অন্যান্য পশুপাখির জন্য সরকারের পক্ষ থেকে নিয়মিত বিপুল পরিমাণ খাবার বরাদ্দ দেওয়া হয়। কিন্তু সেই খাবার প্রাণীদের না দিয়ে আত্মসাৎ করছেন দায়িত্বপ্রাপ্ত বনকর্তারা। স্থানীয়দের ভাষায়, “বানরের খাবার খাচ্ছে বনকর্তারা, আর অভুক্ত বানর মরছে রাস্তায়।”

শুধু তাই নয়, এলাকাবাসীর অভিযোগ— ‘জাতীয় উদ্যান’-এর সাইনবোর্ড ঝুলিয়ে এখানে অবাধে পাহাড় ও মাটি কাটার মহোৎসব চলছে। বনের প্রাণী ও প্রকৃতি রক্ষার জন্য যাদের নিয়োগ দেওয়া হয়েছে, তাদের ছত্রচ্ছায়াতেই বন ধ্বংসের এই ভয়াবহ কার্যক্রম চলছে বলে দাবি স্থানীয়দের।

সড়ক দুর্ঘটনা রোধ ও বন্যপ্রাণী রক্ষায় পথচারী ও স্থানীয়দের ৩ দফা দাবি: ১. তারের বেড়া নির্মাণ: বন্যপ্রাণীদের সড়ক দুর্ঘটনা থেকে বাঁচাতে অবিলম্বে ময়মনসিংহ-টাঙ্গাইল মহাসড়কের জাতীয় উদ্যান অংশের দুই পাশে টেকসই তারের বেড়া (ফেন্সিং) নির্মাণ করতে হবে। ২. বনের ভেতর খাবারের ব্যবস্থা: সরকারের বরাদ্দকৃত খাবার বনের নির্দিষ্ট স্থানে প্রাণীদের খেতে দিতে হবে। ভেতরে খাবারের নিশ্চয়তা থাকলে বানরগুলো আর জীবনের ঝুঁকি নিয়ে সড়কে আসবে না। ৩. দুর্নীতির তদন্ত ও শাস্তি: বানর ও বন্যপ্রাণীর খাবার নিয়ে নয়ছয় করা এবং পাহাড় কাটার সাথে জড়িত অসাধু বন কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে দ্রুত তদন্ত করে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।

প্রকৃতিপ্রেমী ও স্থানীয়দের জোর দাবি, বিষয়টি যেন অতি দ্রুত পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয় এবং বন অধিদপ্তরের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের নজরে আসে। বন্যপ্রাণীর জন্য বরাদ্দকৃত খাবার নিয়ে কোনো প্রকার দুর্নীতি যেন আর বরদাশত করা না হয়, সে বিষয়ে জরুরি হস্তক্ষেপ প্রয়োজন।

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.