- সরিষাবাড়ীতে যুবদল নেতার দাপটে গাছ কর্তন ও বাউন্ডারি ভাঙচুরের অভিযোগ - April 16, 2026
- সরকারি অবহেলায় বিপন্ন জনস্বাস্থ্য জলাতঙ্কের টিকা নিশ্চিত করুন - April 16, 2026
- টাঙ্গাইলের মধুপুরে ‘বি নিউজ মিডিয়া’র পঞ্চম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত - April 11, 2026

সাইফুল ইসলাম: বান্দরবান জেলা প্রতিনিধি:
৪ঠা ডিসেম্বর বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ ইউনিয়ন পরিষদ প্রশাসনিক কর্মকর্তা সমিতি কতৃর্ক ৫ দফা দাবী আদায়ের লক্ষ্য সারাদেশের ন্যায় বান্দরবান জেলা প্রশাসনিক কর্মকর্তা সমিতির উদ্দে্যাগে জেলা প্রশাসক এর মাধ্যমে স্থানীয় সরকার উপদেষ্টার বরাবরে স্মারকলিপি প্রদান করা হয়।
ইউনিয়ন পরিষদ প্রশাসনিক কর্মকর্তাগণকে ১০ম গ্রেড প্রদান ও ন্যায়সঙ্গত দাবিসমূহ বাস্তবায়নের লক্ষ্যে স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়, স্থানীয় সরকার কাঠামোর অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মৌলিক স্তর হচ্ছে ইউনিয়ন পরিষদ, যা প্রাচীন প্রতিষ্ঠান হিসেবে ১৮৭০ সালে হতে গ্রামীণ জনগণকে সেবা দিয়ে আসছে। স্থানীয় সরকারের মৌলিক এই ভিত্তির উপর অনেকাংশেই দেশের কার্যকর উন্নয়ন ও অগ্রসরতা নির্ভর করে। ইউনিয়ন পরিষদে কর্মরত জনবলের মধ্যে ইউনিয়ন পরিষদ প্রশাসনিক কর্মকর্তাগনের (পূর্বতন ইউপি সচিব) কাজ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ইউনিয়ন পরিষদের ক্রমবর্ধমান কাজের পরিষিতে ইউপি প্রশাসনিক কর্মকর্তাগণের ভূমিকা বাস্তবতার নিরিখে বহুগুন বৃদ্ধি পেয়েছে। ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের নেতৃত্বে ইউপি প্রশাসনিক কর্মকর্তাগণ সরকারের উন্নয়ন কর্মকান্ড বাস্তবায়নে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। উন্নয়ন পরিকল্পনা গ্রহণ ও বাস্তবায়ন, ত্রাণ সামগ্রী বিতরণে সহযোগিতাসহ বিভিন্ন মাস্টার রোল তৈরী, সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচীর আওতায় বিভিন্ন ভাতাভোগী (বয়স্ক, বিধবা, প্রতিবন্ধি, মা ও শিশু সহায়তা, হরিজন, বেদে ও জেলে, ভিডব্লিউবি ও ভিজিএফ ইত্যাদি) নির্বাচন ও বিভিন্ন প্রকার সনদ (নাগরিকত্ব সনদ, জনন্ম—মৃত্যু নিবন্ধন, ওয়ারিশ সনদ, বার্ষিক আয়—ব্যয়ের প্রত্যয়ন, বিবাহিত সনদ, অবিবাহিত সনদ, অনাপত্তি সনদসহ অন্যান্য সনদ) প্রদান, গ্রাম আদালত পরিচালনা, ইউপি উন্নয়ন সহায়তা তহবিল এর প্রকল্প বাছাই ও চূড়ান্তকরণ ও বাস্তবায়ন কার্যক্রম পরিচালনা, নথি প্রস্তুত ও সংরক্ষণ, ইউনিয়ন পরিষদের ট্যাক্স এসেসমেন্ট তৈরী ও রাজস্ব আদায়সহ অনেক গুরুত্বপূর্ণ কাজ সম্পাদন করে থাকেন। সরকারের প্রায় সকল বিভাগ বা মন্ত্রণালয়ের প্রায়োগিক বিষয়গুলো প্রান্তিক পর্যায়ে বাস্তবায়নে প্রশাসনিক কর্মকর্তাগণের ভূমিকা অনস্বীকার্য। ইউপি প্রশাসনিক কর্মকর্তাগণ ইউনিয়ন উন্নয়ন সমন্বয় কমিটির সদস্য সচিবের দায়িত্ব পালনসহ ইউনিয়ন পর্যায়ে প্রায় সকল কমিটিতে সদস্য সচিব হিসেবে (প্রায় ৩৯টি কমিটিতে) মুখ্য ভূমিকা পালন করে থাকেন। ইউপি প্রশাসনিক কর্মকর্তা তথ্য অধিকার আইন ২০০৯ অনুসারে তথ্য প্রদানকারী কর্মকর্তা, জন্ম—মৃত্যু নিবন্ধনের অথারাইজড পার্সন হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছেন। ইউপির ব্যাংক হিসাবসমূহ ইউপি চেয়ারম্যান ও ইউপি প্রশাসনিক কর্মকর্তার যৌথ স্বাক্ষরে পরিচালিত হয়। সার্বিক বিবেচনায় ইউপি প্রশাসনিক কর্মকর্তাগণের কর্মপরিধি অত্যন্ত ব্যাপক ও গুরুত্বপূর্ণ।
স্মারকলিপিতে আরো উল্লেখ করা হয়, স্থানীয় সরকার (ইউনিয়ন পরিষদ) কর্মচারী চাকুরী বিধিমালা, ২০১১ অনুযায়ী সরাসরি নিয়োগের ক্ষেত্রে ইউপি প্রশাসনিক কর্মকর্তার শিক্ষাগত যোগ্যতা স্নাতক (২য় শ্রেণি) এবং বেতন স্কেল—২০১৫ অনুযায়ী ১৪তম গ্রেড। উক্ত বিধিমালার বিধি—১৩ এর বিধানাবলী সাপেক্ষে কোন কর্মচারীকে পরবর্তী উচ্চতর পদে পদোন্নতির জন্য বিবেচনা করা যেতে পারে মর্মে উল্লেখ আছে। তবে পদোন্নতির জন্যপরবর্তী উচ্চতর ধাপ/পদ কোনটি হবে তার স্পষ্ট কোন ব্যাখ্যা নাই। তাই ইউপি প্রশাসনিক কর্মকর্তাগণ পদোন্নতি হতে বঞ্চিত হচ্ছেন।
ইউনিয়ন পরিষদ প্রশাসনিক কর্মকর্তা পদে (পূর্বতন ইউপি সচিব) ১৯৯০ সাল থেকে স্নাতক ডিগ্রিধারী নিয়োগ করা হয়। ব্লক সুপারভাইজার, উপ—সহকারী ভূমি কর্মকর্তা—সাবেক তহশিলদার, গ শ্রেণির পৌর নির্বাহী কর্মকর্তা, সহকারী উপজেলা শিক্ষা অফিসার—এটিইও, প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক/সহকারী শিক্ষক, মৎস্য ও প্রাণী সম্পদ বিভাগের ফিল্ড এসিসট্যান্ট, পুলিশের ইউনিয়ন পর্যায়ে বিভিন্ন মন্ত্রণালয় বা দপ্তরে আমাদের সমপদে বা নিম্নপদের অনেকের (যেমন: উপ—সহকারী কৃষি কর্মকর্তা—সাবেক এসআই) তাদের বেতন স্কেল আপগ্রেড করা হলেও স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় থেকে বারবার জনপ্রশাসন ও অর্থ মন্ত্রণালয়ে পত্র প্রেরণ করা সত্ত্বেও আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে ১০ম গ্রেড প্রদান বাস্তবায়ন হয়নি (সংযুক্ত ছকে উক্ত বৈষম্য তুলে ধরা হলো)। তাছাড়া ইউনিয়ন পরিষদের কর্মপরিধির নিরিখে পদোন্নতির বিষয়টিও অধিকতর যৌক্তিক এবং বাস্তববসম্মত।
ইউনিয়ন পরিষদ প্রশাসনিক কর্মকর্তাগণকে ১০ম গ্রেডে উন্নীত করার দাবির প্রেক্ষিতে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় একমত পোষণ করে গত ৭/০১/২০২০ খ্রি. তারিখের ৪৬.০১৮.০৩২,০০,০০,০৫৪.২০১৬—৩৪ ও ৩৫ নং আরকে ইউপি প্রশাসনিক কর্মকর্তাগণের বেতনস্কেল ১০ম গ্রেডে উন্নীত করার নিমিত্তে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের প্রস্তাবসহ পত্র প্রেরণ করেন ও বহুবার জনপ্রশাসন ও অর্থ মন্ত্রণালয়ে নথি চলাচল হয়েছে এবং বর্তমানেও স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে নথি প্রক্রিয়াধীন আছে যা দ্রুত বাস্তবায়নের দাবি করেছেন।
বর্তমানে ইউনিয়ন পরিষদ প্রশাসনিক কর্মকর্তাগনের বেতনের ৭৫% সরকারি তহবিল হতে ও ২৫% ইউপি অংশ (যা উপজেলা নির্বাহী অফিসারগণ স্থাবর সম্পত্তি হস্তান্তর কর ১% ও হাট—বাজার, জল মহাল ইজারালব্ধ আয়ের অর্থ হতে প্রদান করে থাকেন) একত্র করে জেলা প্রশাসক মহোদয়গণ শতভাগ বেতন—ভাতা প্রদান করে থাকেন। কিন্তু উৎসব ও আনুতোষিক ভাতা ৫০% সরকারী তহবিল হতে এবং ৫০% ইউপি অংশ হতে প্রদান করা হয়। যার কারণে ইউনিয়ন পরিষদ প্রশাসনিক কর্মকর্তাগণ বেতন—ভাতাদি প্রাপ্তির ক্ষেত্রে চরম বৈষম্যের শিকার হচ্ছেন বিধায় তারা ইউনিয়ন পরিষদ প্রশাসনিক কর্মকর্তাগণ নিম্নোক্ত দাবিসমূহ উপস্থাপন করেছেন। উত্থাপিত দাবী গুলো হলো—১। ইউনিয়ন পরিষদ প্রশাসনিক কর্মকর্তাগণকে ১০ম গ্রেডে উন্নীত করা। ২। সময়োপযোগী নিয়োগ বিধিমালা প্রণয়ন করে ইউনিয়ন পরিষদ প্রশাসনিক কর্মকর্তাগণকে পদোন্নতি প্রদান। ৩। মন্ত্রণালয় হতে ইউনিয়ন পরিষদ প্রশাসনিক কর্মকর্তাগণের শতভাগ বেতন—ভাতাদি প্রদান। ৪। অবসরকালীন ইউনিয়ন পরিষদ প্রশাসনিক কর্মকর্তাগণকে শতভাগ আনুতোষিক প্রদান অথবা পারিবারিক পেনশন প্রদান। ৫। স্থানীয় সরকার অধিদপ্তর গঠন।
এতে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় কমিটির সহ সভাপতি মোঃ জাহাঙ্গীর হোসেন, জেলা কমিটির সভাপতি মোঃ হোসেন, সহ সভাপতি লিটন পাল, উশৈমং মার্মা, উবানু মার্মা, উচপ্রম্ন মার্ম সহ সাধারনত সম্পাদক মোঃ সাইফুদ্দিন, উকায়াই চাক, চমং মার্মা ও খোকন তং প্রমুখ। জেলা প্রশাসক বান্দরবানের জনগনের সার্বিক সেবা ও জন্ম মৃত্যু নিবন্ধনের উপর গুরুত্ব দেওয়ার জন্য পরামর্শ দেন।

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.