বান্দরবানে নীলাচল-টাইগারপাড়া-রুপালি ঝঁর্না সড়ক সংস্কারের দাবি স্থানীয়দের

সাইফুল ইসলাম: বান্দরবান জেলা প্রতিনিধি
বান্দরবানে নীলাচল-টাইগারপাড়া-রুপালি ঝঁর্না সড়কটি সংস্কারের অভাবে ব্যবহার অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। দ্রত সড়কটির সংস্কারের দাবী স্থানীয়দের। সড়ক সংস্কার হলে খুলবে পর্যটন সম্ভাবনার দুয়ার। বান্দরবানের নীলাচল-টাইগারপাড়া-রুপালি ঝঁর্না সড়কটি সংস্কারের অভাবে ব্যবহার অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। সাড়ে তিন কিলোমিটার এ সড়কটি সংস্কার হলে ভোগান্তি কমবে ভ্রমণ পিপাসুদের। পাশাপাশি পর্যটন শিল্পের বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বিকল্প সংযোগ সড়কটি।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, সড়কটি মধ্যেখানে কয়েকটি স্থানে সড়কের ইটগুলো উঠে গেছে।
গত বর্ষায় ভারী বৃষ্টিতে রাস্তার দুপাশ ভেঙে মাটিসহ সড়কটি ধসে গেছে। সড়কটির শেষপ্রান্তে রুপালী ঝর্নার আগের ঢালুতে সড়কের ইটগুলো পুরোপুরি ভেঙে উঠে যাওয়ায় মারাত্মক ঝুকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। এছাড়া সড়কটিতে ড্রেনেস ব্যবস্থা না থাকায় বৃষ্টিতে পাহাড়ী ঢলে চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে।
প্রকৌশল বিভাগ ও স্থানীয়দের তথ্যমতে, পার্বত্য বান্দরবান জেলার অন্যতম পর্যটন স্পট নীলাচল সড়কের টাইগার পাড়া রাস্তারমুখ থেকে অপরূপ দর্শণীয় স্থান রুপালী ঝর্না হয়ে বান্দরবান চট্টগ্রাম প্রধান সড়কের রেইছা এলাকায় সড়কটি যুক্ত হয়েছে। দীর্ঘ দশ বছরের অধিক সময় ধরে ইটের তৈরি এই সাড়ে তিন কিলোমিটার সড়কটি সংস্কার করা হয়নি।
স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) অর্থায়নে গুরুত্বপূর্ণ সড়কটি প্রশস্তকরণ ও কার্পেটিং কাজ বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেয়া হয়। কিন্তু অদৃশ্য কারণে দীর্ঘ পাঁচ বছরেও সড়কটি সংস্কারের টেন্ডার আহবান করা হয়নি।
স্থানীয় বাসিন্দার বেচামণি তঞ্চঙ্গ্যা ও জাইফল তঞ্চঙ্গ্যা জানান, নীলাচল সড়কের মুখ থেকে সহজেই রুপালী ঝর্না যাওয়া যায় টাইগার পাড়া অভ্যন্তরিন সড়কপথে। আর চট্টগ্রাম সড়কের রেইছা থেকে রুপালী ঝর্না হয়ে অল্প সময়ে নীলাচল পর্যটন স্পটে পৌছানো যায় সড়কটি ব্যবহার করে। পর্যটকবাহী গাড়ীগুলো সড়কটিতে বেশী চলাচল করে। কিন্তু দীর্ঘদিন সংস্কার না হওয়ায় সড়কটির বিভিন্ন স্থানে ভেঙ্গে গেছে। সড়কটি সবচেয়ে বিপজ্জনক হয়ে পড়েছে রুপালী ঝর্না ঢালুতে। সড়কটি দ্রæত সংস্কারের দাবী জানাচ্ছি।
বান্দরবান বোমাং সার্কেলের টাইগার পাড়া প্রধান (কার্বারী) ভিরু কুমার তঞ্চঙ্গ্যা বলেন, টাইগার পাড়া হয়ে রেইছা-নীলাচল সংযোগ সড়কটি গুরুত্বপূর্ণ একটি সড়ক। সড়কটির দুপাশের প্রাকৃতিক সৌন্দর্যেও পর্যটকরা মুগ্ধ হবার মতো।
ইতিমধ্যে এ সড়কে পর্যটকদের সুবিধার্থে কয়েকটি আবাসিক রিসোর্ট গড়ে তোলার কাজ চলমান রয়েছে। ব্যক্তিমালিকাধীন অনেকগুলো বাংলো ও বিভিন্ন ফলজ বাগান রয়েছে অনেকের। সড়কটি সংস্কারে জরুরী ভিত্তিতে প্রদক্ষেপ নেয়ার দাবী জানাচ্ছি।
এ বিষয়ে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) বান্দরবানের নির্বাহী প্রকৌশলী ড. জিয়াউল ইসলাম মজুমদার জানান, গুরুত্বপূর্ণ সংযোগ সড়কটি পর্যটন বান্ধব একটি সড়কে উন্নয়নের পরিকল্পনা নিয়েছে এলজিইডি। ইতিমধ্যে সাড়ে তিন কিলোমিটার সড়কে উন্নয়ন কাজের প্রস্তাবনা সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে।
জেলার অন্যতম পর্যটন ম্পট নীলাচল ও রুপালী ঝর্নার সংযোগ সড়কটির দুপাশেও পর্যটনের অনেক সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে ইতিমধ্যে। সড়কটি উন্নয়ন হলে স্থানীয়ভাবে পর্যটন শিল্পের আরও বিকাশ ঘটবে।

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.