হাইকোর্টের রায়, মন্ত্রণালয়ের নির্দেশ- তবুও দায়িত্ব পাননি চেয়ারম্যান! নওগাঁয় জেলা প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে বিতর্ক
Latest posts by সম্পাদনা: এস.এম আব্দুর রাজ্জাক (see all)
- সরিষাবাড়ীতে যুবদল নেতার দাপটে গাছ কর্তন ও বাউন্ডারি ভাঙচুরের অভিযোগ - April 16, 2026
- সরকারি অবহেলায় বিপন্ন জনস্বাস্থ্য জলাতঙ্কের টিকা নিশ্চিত করুন - April 16, 2026
- টাঙ্গাইলের মধুপুরে ‘বি নিউজ মিডিয়া’র পঞ্চম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত - April 11, 2026

নওগাঁ প্রতিনিধি:
নওগাঁর রানীনগর উপজেলার ৮ নম্বর মিরাট ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হাফেজ মো. জিয়াউর রহমান (জিয়া)–এর দায়ের করা রিট পিটিশনের প্রেক্ষিতে হাইকোর্টের রায় বাস্তবায়নে বিলম্বের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় স্থানীয় প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে বিভিন্ন মহলে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, চেয়ারম্যানের অনুপস্থিতিতে জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে গত ৯ জানুয়ারি ২০২৫ তারিখে জারি করা এক আদেশের মাধ্যমে উপজেলা আইসিটি কর্মকর্তাকে উক্ত ইউনিয়ন পরিষদের আর্থিক ও প্রশাসনিক ক্ষমতা প্রদান করা হয়। পরবর্তীতে ওই আদেশের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাফেজ মো. জিয়াউর রহমান হাইকোর্টে রিট পিটিশন দায়ের করেন।
রিটের শুনানি শেষে হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতি রাজিক-আল-জলিল ও বিচারপতি মো. আনোয়ারুল ইসলাম সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ সংশ্লিষ্ট আদেশের কার্যকারিতা ৬ (ছয়) মাসের জন্য স্থগিতাদেশ প্রদান এবং রুল জারি করেন। পাশাপাশি আবেদনকারীকে তার পদে বহাল থেকে দায়িত্ব পালনের সুযোগ দেওয়ার নির্দেশনা দেন।
এর পরিপ্রেক্ষিতে চেয়ারম্যান রায়ের কপি সংযুক্ত করে ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে আদালতের রায় বাস্তবায়নের জন্য সংশ্লিষ্টদের কাছে আবেদন করেন। পরবর্তীতে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের ইউপি-১ শাখা, বাংলাদেশ সচিবালয়, ঢাকা রায় যাচাই-বাছাই শেষে ১০ মার্চ ২০২৬ তারিখে নওগাঁ জেলা প্রশাসকের কাছে একটি পত্র জারি করে। পত্রের স্মারক নং ৪৬.০০.৬৪০০.০০০.০১৭.২৭.০০০৩.২৫-১৩৭। এতে আদালতের আদেশ অনুযায়ী চেয়ারম্যানকে দায়িত্ব প্রদানের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশনা দেওয়া হয়।
তবে অভিযোগ রয়েছে, হাইকোর্টের আদেশ এবং মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা থাকা সত্ত্বেও স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে তা বাস্তবায়নে বিলম্ব করা হচ্ছে।
এ বিষয়ে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম–এর সঙ্গে মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি সাড়া দেননি।
জেলা প্রশাসনের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, “স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় থেকে পরিপত্র ও হাইকোর্টের রায়ের কপি আমরা পেয়েছি এবং জেলা প্রশাসক মহোদয়কে অবগত করা হয়েছে। সে অনুযায়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে মতামত চাওয়া হয়েছে।”
রানীনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রাকিবুল হাসান বলেন, “হাইকোর্টের রায় ও মন্ত্রণালয়ের পরিপত্র পেয়েছি। আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হয়ে আইসিটি কর্মকর্তা কামরুজ্জামানকে ইউনিয়ন পরিষদের কার্যক্রম বন্ধ রাখার জন্য মৌখিক নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। জেলা প্রশাসকের পরবর্তী নির্দেশনার অপেক্ষায় আছি।”
এ বিষয়ে নওগাঁ-৬ (আত্রাই-রানীনগর) আসনের সংসদ সদস্য শেখ রেজাউল হাসান বলেন, “আইনের প্রতি প্রত্যেক নাগরিকের শ্রদ্ধাশীল হওয়া উচিত। আইনের ঊর্ধ্বে কেউ নয়। তবে হাইকোর্টের রায় ও মন্ত্রণালয়ের চিঠির আদেশ কেন এখনো বাস্তবায়ন করা হয়নি—এ বিষয়ে আমি অবগত নই।”
হাইকোর্টের সিনিয়র আইনজীবী মো. শাহরিয়ার ভূঁইয়া বলেন, “আদালতের রায়ের আলোকে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় জেলা প্রশাসককে নির্দেশ দিয়েছে। এরপরও বাস্তবায়নে বিলম্ব হওয়া বোধগম্য নয়। দ্রুত বাস্তবায়ন না হলে তা আদালত অবমাননার পর্যায়ে পড়তে পারে। প্রয়োজনে বাদী উচ্চ আদালতে কনটেম্পট পিটিশন দায়ের করতে পারেন।”
চেয়ারম্যান হাফেজ মো. জিয়াউর রহমান (জিয়া) বলেন, “আমি হাইকোর্ট থেকে ন্যায়বিচার পেয়েছি। মন্ত্রণালয় থেকেও আমাকে দায়িত্ব প্রদানের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। কিন্তু এখনো জেলা প্রশাসকের পক্ষ থেকে কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। আমি আশা করি, দ্রুত আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
উল্লেখ্য, হাইকোর্টের রায় দ্রুত বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের কার্যকর পদক্ষেপের প্রত্যাশা করছেন ভুক্তভোগীসহ সংশ্লিষ্ট মহল।

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.