মধুপুর–ধনবাড়ীতে কারিগরি শিক্ষার উদ্যোগের ঘোষণা

রামচন্দ্র ঘোষ:

মধুপুর–ধনবাড়ীতে কারিগরি শিক্ষার উদ্যোগের ঘোষণা ,অবসরপ্রাপ্ত লে. কর্নেল আসাদুল ইসলাম আজাদের মতবিনিময় সভা

টাঙ্গাইলের মধুপুর–ধনবাড়ী। বৃহত্তর ময়মনসিংহ অঞ্চলের একটি অবহেলিত জনপদ। এখানে উচ্চশিক্ষার সুযোগ সীমিত, আর চাকরির সুযোগ আরও সীমিত। উচ্চমাধ্যমিক পাস করার পর অনেক তরুণকে কাজের খোঁজে ঢাকায় কিংবা বিদেশে যেতে হয়। যোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও কর্মসংস্থানের অভাবে অনেকেই বেকার হয়ে পড়ে আছেন।

এমন বাস্তবতায় কারিগরি শিক্ষা ও কর্মসংস্থানের প্রসারে বড় ধরনের উদ্যোগের ঘোষণা দিলেন বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এবং বিএনপির মনোনয়নপ্রত্যাশী লে. কর্নেল আসাদুল ইসলাম আজাদ।

শনিবার বিকেলে মধুপুর উপজেলার আলোকদিয়া ইউনিয়নের মহিষবাতান এলাকায় স্থানীয় নেতা-কর্মী ও সাধারণ মানুষের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তিনি বলেন,“দেশের টেকসই উন্নয়ন ও কর্মসংস্থানের জন্য কারিগরি শিক্ষার বিকল্প নেই। আমি যদি জনগণের প্রতিনিধি হওয়ার সুযোগ পাই, তাহলে মধুপুর ও ধনবাড়ীতে স্কুল-কলেজ পর্যায়ে কারিগরি শাখা চালু করব। একই সঙ্গে আধুনিক প্রশিক্ষণ কেন্দ্র গড়ে তুলব, যাতে এখানকার তরুণরা দক্ষ হয়ে এখানেই কাজের সুযোগ পান। বিদেশে না গিয়েও যেন তারা নিজের পায়ে দাঁড়াতে পারেন।”

তিনি আরও বলেন,“মধুপুর–ধনবাড়ী অবহেলিত জনপদ। শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কৃষি ও শিল্পোন্নয়নে এখানে দীর্ঘদিন কোনো কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। আমি জনগণের দোয়া ও সমর্থন পেলে প্রতিটি ইউনিয়নে উন্নয়ন পৌঁছে দেব। ধনবাড়ী–মধুপুরকে মডেল উপজেলা হিসেবে গড়ে তুলব।”

সভায় উপস্থিত নেতৃবৃন্দ মতবিনিময় সভায় উপস্থিত ছিলেন মধুপুর উপজেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আশরাফুল ইসলাম মাসুদ, উপজেলা বিএনপির মৎস্যবিষয়ক সম্পাদক নুরুল আলম মেম্বার, যুবদল নেতা মিনহাজ হোসেন, ছাত্রদল নেতা মো. মোজাম্মেল হোসেনসহ স্থানীয় বিএনপি, যুবদল ও ছাত্রদলের বিভিন্ন স্তরের নেতাকর্মী।
স্থানীয়দের প্রত্যাশা সভায় বক্তারা বলেন, ধনবাড়ী–মধুপুরের মানুষ দীর্ঘদিন উন্নয়ন বঞ্চিত। কর্নেল আজাদ একজন সৎ, শিক্ষিত ও অভিজ্ঞ নেতা। তাঁর নেতৃত্বে এ অঞ্চলের অবহেলিত মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠিত হবে।

এ সময় এলাকার তরুণ ও সাধারণ মানুষ কর্নেল আজাদের উন্নয়ন পরিকল্পনার প্রতি গভীর সমর্থন জানান। তাঁদের অনেকের ভাষ্য“এলাকায় যদি কারিগরি শিক্ষার ব্যবস্থা হয়, তাহলে আমরা আর বেকার থাকব না। কাজের খোঁজে দূরে যেতে হবে না। নিজেদের এলাকায় থেকেই স্বাবলম্বী হতে পারব।”

বর্তমানে মধুপুর–ধনবাড়ী এলাকায় উল্লেখযোগ্য কোনো কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নেই। ফলে প্রতিবছর শত শত তরুণ পড়াশোনা শেষ করেও কাজের সুযোগ না পেয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েন। অনেকেই ঋণ করে বিদেশে যান, আবার কেউ কৃষিকাজে জড়িয়ে পড়েন।

স্থানীয়দের আশা, কর্নেল আজাদের ঘোষণার বাস্তবায়ন হলে দীর্ঘদিনের এই সমস্যার সমাধান হবে।

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.