- সরিষাবাড়ীতে যুবদল নেতার দাপটে গাছ কর্তন ও বাউন্ডারি ভাঙচুরের অভিযোগ - April 16, 2026
- সরকারি অবহেলায় বিপন্ন জনস্বাস্থ্য জলাতঙ্কের টিকা নিশ্চিত করুন - April 16, 2026
- টাঙ্গাইলের মধুপুরে ‘বি নিউজ মিডিয়া’র পঞ্চম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত - April 11, 2026

সাইফুল ইসলাম: বান্দরবান জেলা প্রতিনিধি:
পার্বত্য এলাকার পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠির ভাগ্যোন্নয়নের লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছে বাংলাদেশে সেনাবাহিনী। তারই ধারাবাহিকতায় স্থাপন করা হয় চুয়ানবিল পাড়া প্রাক প্রাথমিক বিদ্যালয়। কোন শিশু যেন তার শিক্ষার অধিকার থেকে বঞ্চিত না হয় সেদিকে লক্ষ্য রেখে বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী এলাকায় স্থাপন করা হয় এ বিদ্যালয়। চুয়ানবিল পাড়া বম সম্প্রদায়ের অধ্যুষিত এলাকা বটে। এ পাড়ার কারবারী জানান, ব্রিটিশ আমল হতে এ পাড়ায় তাদের বসবাস। ব্রিটিশ পরবর্তী পাকিস্তান আমলে একখানা প্রাইমারী স্কুল স্থাপন হলেও তা ১৯৮০ সালে জাতীয়করনের চেষ্টাকালে এসে শান্তিবাহিনী বন্ধ করে দেয়। স্যীমান্তবর্তী এলাকা হওয়ায় বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা উড়ুক তা তারা চাই নাই। বান্দরবানের রোয়াংছড়ি উপজেলা শহর থেকে শিক্ষক প্রেরণ করা হলেও তাদেরকে ভয়ভীতি প্রদর্শণ করা হলে শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়া বন্ধ হয়ে যায়। তৎ অবধি হতে শিক্ষা আলো থেকে বঞ্চিত হয় এ পাড়াবাসী। তবে এ পাড়ার ছেলে মেয়েরা তাদের আত্মীয়তার হাত ধরে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে খ্রিস্টান হোস্টেলে লেখাপড়ার সুযোগ করে নেয়। অর্থভাবে তাদের অভিভাবকদের উচ্চ শিক্ষা গ্রহণ করা সম্ভব না হলেও গ্রামে এসে নিজেদের পাড়ায় শিশুদের জ্ঞানের আলোর ফোটাতে এবার দূর্গম চুয়ানবিল পাড়ায় সেনাজোনের সহায়তা গঠন করল প্রাক-প্রাথমিক বিদ্যালয়।
বান্দরবান সেনা জোন কমান্ডার ৫ ইস্ট বেঙ্গলের অধিনায়ক লে. কর্নেল এএসএম মাহমুদুল হাসান পিএসসি জানান, রোয়াংছড়ি ও বিলাইছড়ি উপজেলার উত্তর সীমান্তবর্তী এবং রোয়াংছড়ি উপজেলার ৩নং ওয়ার্ড এর অধীনে পাহাড়ের চূড়ায় অবস্থিত চুয়ানবিল পাড়াটি’তে সর্বমোট ২৬টি বম পরিবার এর বসবাস। পাড়াবাসীকে তাদের দৈনন্দিন নিত্য প্রয়োজনীয় সামগ্রী কিনতে ও বাজার করতে রোয়াংছড়ি বাজারে যেতে হয়। যার জন্য পাড়ি দিতে হয় দূর্গম পাহাড়ী রাস্তা ও ব্যয় করতে হয় ৪-৫ ঘণ্টা। উক্ত পাড়াটি দুর্গম স্থানে অবস্থিত হওয়ায় সাধারণ মানুষ তাদের মৌলিক চাহিদা সমূহ হতে বঞ্চিত হচ্ছিল। চুয়ানবিল পাড়াবাসীর শিক্ষার উদ্দেশ্যে নিজ পাড়া হতে দূরে কচ্ছপতলী এলাকা অথবা রোয়াংছড়ি সদর এলাকায় যাতায়াত করতে হয় যা ছোট ছোট শিশুদের জন্য সম্ভাবপর হয় না। ফলশ্রুতিতে পাড়ার বাচ্চারা প্রাক-প্রাথমিক ও প্রাথমিক শিক্ষা থেকে বঞ্চিত হচ্ছিল। তাছাড়া চুয়ানবিল পাড়াটি খরস্রোতা তারাছা খালের তীরবর্তী হওয়ায় বর্ষাকালে মৌলিক যে কোন চাঁহিদা মেটানোর জন্য খাল পাড় হয়ে দূরবর্তী যে কোন জায়গায় গমন করা অসম্ভব হয়ে পড়ে। বান্দরবান সেনা জোন কর্তৃক টহল কার্যক্রম পরিচালনার সময় প্রাথমিক শিক্ষা বঞ্চিত শিশুদের বিষয়টি সেনাবাহিনীর নজরে আসলে শিক্ষার আলো পৌঁছে দেয়ার উদ্দেশ্যে একটি প্রাক প্রাথমিক বিদ্যালয় স্থাপনের ব্যাপারে পাড়াবাসীর সাথে পরামর্শ করা হয়। পাড়াবাসী কর্তৃক সেনাবাহিনীর এই উদ্যেগকে স্বাগত জানালে বান্দরবান সেনা জোন কর্তৃক একটি প্রাক প্রাথমিক বিদ্যালয় স্থাপনের সিদ্ধান্ত গৃহিত হয়। পরবর্তীতে বান্দরবান সেনা রিজিয়নের সার্বিক পৃষ্ঠপোষকতায় এবং বান্দরবান সেনা জোন এর নিরলস প্রচেষ্টার ফলে চুয়ানবিল পাড়া প্রাক প্রাথমিক বিদ্যালয় স্থাপন গত ০৬ জানুয়ারি ২০২৫ তারিখে সম্পন্ন হয়। এছাড়াও স্কুল পরিচালনার পয়োজনীয় শিক্ষা উপকরণ সরবরাহ করা হয়। বর্তমানে স্কুলে সর্বমোট ১৫ জন শিক্ষার্থী প্রাক প্রাথমিক শিক্ষা গ্রহন করছে। বান্দরবান সেনা রিজিয়ন কর্তৃক সকল। শিক্ষার্থীকে বই ও প্রয়োজনীয় শিক্ষা সামগ্রী সরবরাহ করা হয়েছে। এছাড়াও, পাড়ায় স্কুল পরিচালনার সুবিধার্থে পাড়া থেকে সেনা জোনের অর্থায়নে একজন পুরুষ ও একজন নারী শিক্ষক নিয়োগ দেয়া হয়েছে যা তাদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করেছে। সেনাবাহিনীর এহেন উদ্যোগে পাড়াবাসী সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছে। সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে এরুপ উদ্দ্যোগ অব্যাহত থাকবে বলে বান্দরবান জোন সকলকে অবহিত করে।
Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.