টাঙ্গাইলে বিপ্লব হত্যার মামলার বাদীর হাত-পা ভেঙ্গে দিল সস্ত্রাসীরা

টাংগাইল প্রতিনিধি:

টাঙ্গাইলের ধনবাড়ীতে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে শহীদ বিপ্লব নিহতের ঘটনায় প্রভাব শালিদের বিরুদ্ধে মামলা করায় মামলার বাদীকে অপহরণ করে হত্যার চেষ্টা করে। মামলার বাদীকে হাত পা ভেঙ্গে দিলেন অপহরন কারীরা। ঘটনাটি ঘটেছে টাংগাইলের ধনবাড়ী উপজেলার বীরতারা গ্রামে।

ছাত্র-জনতা আন্দোলনে ফ্যাসিষ্ট আওয়ামী লীগ সরকার বিদায় নিয়েছে। ক্ষমতা ধরে রাখতে শেখ হাসিনার পুলিশ বাহিনীর হাজার হাজার ছাত্র জনতাকে গুলি করে হত্যা করে। আর এ হত্যার সাথে জড়িত প্রকৃত আসামীদের আইনের আওতায় আনতে গিয়ে সারাদেশেই অসংখ্য মামলা দায়ের করা হয়েছে। আবার আর্থিক লোভ অথবা ভয়ভীতি বা মামলা চালানোর মত আর্থিক স্বচ্ছলতা না থাকার কারনে সন্তান হত্যার আসামীদের বিরুদ্ধে মামলা করতে পারেনি। তেমন ঘটনা ঘটেছে টাঙ্গাইলের ধনবাড়ী উপজেলার বীরতারা গ্রামের কিশোর বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে ঢাকায় শহীদ হন বিপ্লব নামের এক কিশোর । হত্যাকান্ডের দীর্ঘদিন পেরিয়ে গেলেও বিপ্লবের পরিবারের পক্ষ থেকে রহস্যজনক কারনে তার পিতা আব্দুল খালেক কোন মামলা দায়ের করেনি। বিপ্লব হত্যাকারীদের আইনের আওতায় আনতে মানবাধিকার কর্মী ও সাংবাদিক লাবু মিয়া বাদী হয়ে আদালতে হত্যা মামলা দায়ের করেন

মামলায় আওয়ামী লীগের মন্ত্রী, এমপি ও প্রভাবশালী নেতাদের আসামী করা হয়।  হত্যা মামলায় জাতীয় পার্টির টাঙ্গাইল জেলা শাখার সাধারন সম্পাদক  মোজাম্মেল হক ও তার ছেলেদের আসামী করা করেন। কিন্তু দীর্ঘদিন পেরিয়ে গেলেও পুলিশ রহস্যজনক কারনে বিপ্লব হত্যাকারীদের এখনো পর্যন্ত গ্রেফতার কাউ কে গ্রেফতার করেনি পুলিশ। এতে করে জেলার সাধারন মানুষের মাঝে চরম ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।

এ ব্যাপারে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের বেশ কয়েকজন সমন্বয়ক ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন পুলিশ কি কারনে আসামীদের গ্রেয়তার করে না তাহা তাদের জানান নেই। তারা বিপ্লব হত্যার আসামীদের গ্রেফতারের দাবিতে যে কোন সময়ে আন্দোলনের ডাক দিতে পারে বলে তারা জানান।

বিপ্লব হত্যার সাথে জড়িতদের আইনের আওতায় এনে বিচারের মুখোমুখি করার জন্যে মানবাধিকার কর্মী ও সাংবাদিক লাবু খন্দকার মামলা করার পর শেখ হাসিনার দোসরদের রোষানলে পড়েছে বলে মামলার বাদী জানান।

কারন প্রভাবশালী এসব আসামীরা চায়না বিপ্লব হত্যার বিচার হোক। আসামীরা মামলা থেকে রেহাই পেতে প্রথম থেকেই মামলার বাদীর  বিরুদ্ধে নানা ষড়যন্ত্র ও ভয়ভীতি প্রদর্শন সহ হত্যার চেষ্টা করে যাচ্ছে।

মামলার বাদী লাব মিয়া জানান  কিছুদিন আগে বিপ্লবের বাবার সাথে  মামলার আসামীরা কৌশল  করে লাবুকে মিথ্যা কথা বলে ধনবাড়ী উপজেলার বীরতারা গ্রামে ডেকে নিয়ে যায়।  তখন বিভিন্ন গ্রামের সাধারণ মানুষ বিপ্লব হত্যার বিচার দাবি করেন। সেখানে আগে থেকে অপেক্ষা করা বিপ্লব হত্যার আসামী মোজাম্মেলের নির্দেশে ও তার ছেলেসহ সস্ত্রাসী বাহিনী উপস্থিত থেকে মামলার বাদী লাবুকে হত্যার উদ্দেশে সন্ত্রাসী বাহিনীরা চিলের মত ছু দিয়ে হাইজ গাড়ীতে তুলে নিয়ে যায়। এরপর একটি অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে, মামলার বাদী লাবুর হাত-পা ভেঙ্গে ফেলে সন্ত্রাসীরা। পরে মামলার বাদী  লাবুকে অর্ধমৃত অবস্থায় ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে জামুর্কী নামক স্থানে ফেলে রাখে। অর্ধমৃত লাশের মত পরে থাকা অবস্থায় স্থানীয় পথ চারি গণ তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়ার চেষ্ঠা করে। এমন অবস্থায় লাবুর পরিবার তাকে উদ্ধার করে ঢাকার একটি হাসপাতালে ভর্তি করে। ভাঙ্গা দুই পা,হাত নিয়ে লাবু হাসপাতালে মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ছে।

এদিকে ঘটনার পর থেকেই শহীদ বিপ্লবের বাবা আব্দুল খালেক পলাতক রয়েছে। সে কারনে এলাকাবাসী ধারনা করছে তার সাথে আসামীরা মিলে মামলার বাদী লাবুকে হত্যার জন্য পরিকল্পনা করেছিল। ছেলে হত্যার মামলা না করে উল্টা মামলার বাদীকে হত্যার পরিকল্পনার ঘটনায় আব্দুল খালেকের বিরুদ্ধে কথা বলতে শুরু করেছে আত্মীয় স্বজন, প্রতিবেশী ও ছাত্র জনতা আন্দোলনের নেতাকর্মীরা। এলাকাবাসী জানায় , মানবাধিকার কর্মী লাবু খন্দকার নিঃস্বার্থ ভাবে ছাত্র হত্যাকারীদের বিচার চেয়েছে এটাই ছিল তার অপরাধ। যার কারনে মামলার আসামীরা জোট বেঁধে মামলার বাদী লাবুকে হত্যার পরিকল্পনা করেছিল। সন্ত্রাসীরা লাবুর দুই হাত ও পা ভেঙ্গে দিয়েছে।

এ ব্যাপারে মামলার বাদী লাবু খন্দকার জানান, আমি হত্যাকারীদের বিচারের আওতায় আনার জন্য মামলা করেছি। শহীদ বিপ্লবের বাবা রহস্যজনক কারনে ছেলে হত্যার বিচার পেতে মামলা করেনি। রাষ্ট্রের একজন সচেতন নাগরিক হিসেবে এবং প্রকৃত দেশপ্রেমিক হিসেবে হত্যাকারীদের বিচারের আওতায় আনতে মৃত্যুর আগ পর্যন্ত লড়ে যাবো। কোন ভয়ভীতি বা আর্থিক লোভ দেখিয়ে আমাকে মামলা থেকে সরানো যাবে না।

লাবু খন্দকার আরো বলেন,আমার উপর যারা হত্যার উদেশ্যে করে হামলা করেছে আমি তাদের চিনি তারা বিপ্লব হত্যার মামলার আসামীসহ তাদে সহযোগী আমি তাদের বিরুদ্ধে অতিদূত মামলা করে তাদের বিরুদ্ধে বিচার দাবি করিবো।

 

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.