- সরিষাবাড়ীতে যুবদল নেতার দাপটে গাছ কর্তন ও বাউন্ডারি ভাঙচুরের অভিযোগ - April 16, 2026
- সরকারি অবহেলায় বিপন্ন জনস্বাস্থ্য জলাতঙ্কের টিকা নিশ্চিত করুন - April 16, 2026
- টাঙ্গাইলের মধুপুরে ‘বি নিউজ মিডিয়া’র পঞ্চম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত - April 11, 2026

সাইফুল ইসলাম: বান্দরবান জেলা প্রতিনিধি:
সন্ত্রাসী শাহীন গ্রুপ কর্তৃক বাড়ীঘর পুড়িয়ে দেয়া, গুম ও হত্যা চেষ্টার বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেছে ক্ষতিগ্রস্থ বান্দরবান জেলার নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার বাইশারী ইউনিয়নের ৮নং ওয়ার্ডের নারিচবুনিয়া গ্রামের সাইফুল ইসলামের পুত্র মকছুদুর রহমান। তিনি ন্যায় বিচার চেয়ে বান্দরবান জেলা পুলিশ সুপারের কাছে ১৬ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলেছেন। আসামী গর্জনীয়া ইউনিয়নের ৭নং ওয়ার্ডের মাঝিরকাটা এলাকার মোঃ ইসলামের পুত্র মোঃ শাহীন, লেদাপুতু, লালা মিয়া, কক্সবাজার জেলার রামু উপজেলার গর্জনীয়া ইউনিয়নের থোয়াইঙ্গ্যাকাটা এলাকার মোঃ ইসলামের দুই পুত্র জাহাঙ্গীর আলম ও রবিউল আলম বাইশারী ইউনিয়নের ৮নং ওয়ার্ডের নারিচবুনিয়া গ্রামের কাশেম আলীর পুত্র ফোরকান আলী, পেঠান আলীর পুত্র মোঃ জসীম উদ্দিন, মহেশখালীর ডাকাত দলের মোস্তাক, তারেক, সোনামিয়া, হাছান, আরফাত, নেজাম উদ্দিন, ছালাহ উদ্দিন, বলি কাশেম, নুরুদ্দীন সহ ৩০/৪০ জন অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী।
ভুক্তভোগীরা রাবার বাগানে চাকুরী করে এবং কৃষিকাজ করে সংসার চালায়। মকছুদর রহমান ও ছোট ভাই মফিজুর রহমান এর পরিবারের উপর সন্ত্রাসী শাহীন এর গ্রæপ গত ১৮ নভেম্বর রাত ১২:৪০ টায় বড় ধরনের আগ্নেয়াস্ত্রে সজ্জিত হয়ে একযোগে ফিল্মি স্টাইলে হামলা চালায়। এলাকায় অন্যান্য মানুষের কুড়েঘরও পুড়িয়ে দেয়। তখন দিক বিদিক ছুটোছুটি করে গভীর জঙ্গলে লুকে থেকে কোন রকমে গ্রামের মানুষ প্রাণে রক্ষা পায়।
এদিকে মফিুজর রহমান বিরোধী দল বিএনপির রাজনীতির সাথে জড়িত থাকায় ১৭ বছর যাবত বিভিন্ন মিথ্যা মামলায় হয়রানি করে ডাকাত শাহীন বাহিনী। এই শাহীন সব সময় র্যাবের ও পুলিশ বিজিবির সোর্স হিসেবে পরিচয় দেয়। যার কারনে তার বিরুদ্ধে কেউ কথা বলার সাহস পায় না। তাকে আটকের জন্য আইন শৃঙ্খলা বাহিনীকে জানালে আরো বিপদে পড়তে হয় ভুক্তভোগীদের।
এদিকে ডাকাত শাহীন সীমান্ত দিয়ে গরু পাচার এর সাথে ইয়াবা আমদানিতে সক্রিয়ভাবে কাজ করেছে ১৭ বছর। সরকারী দলের সাথে তার বিশেষ সখ্যতা থাকায় তাকে কেউ আটক করতে পারত না। মফিজুর রহমানকে তার দলে কাজ করাতে না পেরে এই শত্রæতার বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে বলে জানিয়েছেন। মফিজুর রহমানকে না পেয়ে ক্ষুদ্ধ হয়ে বাড়ীঘর অগ্নিসংযোগ করেছে বলে জানিয়েছে তারা। ডিসেম্বরের ১২ তারিখে হ্যান্ড মাইকে ঘোষণা দেয় যে, তাদের ব্যাপারে স্থানীয়রা কেউ যেন নাক না গলায় এবং খাছিখোলা ২টি ঘরে আগুন দেয়। মফিজের পরিবারে আঘাত আসলেও তারা এত যে ভয়ঙ্কর কেউ সামনে আসার সাহস পায় না। মফিজকে না পেয়ে মকছুদুর এর পরিবারে ৩ শিশু, বৃদ্ধ পিতা-মাতা ও বোনকে উপর্যুপরি মারপিট করে এবং অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে। মফিজের সন্ধান না দিলে অন্তস্বত্ত¡া মহিলার পেঠে লাথি দিয়ে গর্ভপাত ঘটার হুমকি দেয়। গর্ভবতী মহিলাকে পরদিন চিকিৎসকের কাছে নিয়ে গিয়ে জরুরী অপারেশন করিয়া গর্ভপাত ঘটানো হয়।
ফ্যাসিস্ট সরকারের বিদায় হলেও এই ডাকাত বাহিনীর রাজত্বে এলাকায় কোন মানুষ মুখ খুলতে সাহস পাচ্ছে না। জাহাঙ্গীর ও রবিউলের নেতৃত্বে ডিসেম্বরের ৫ তারিখে আবারো পাড়ার অন্য ঘুরে আছে হুংকার দিয়ে বাড়ী ঘরে অগ্নিসংযোগ করে। মকছুদুর ঘরের ৫লক্ষ টাকার জিনিসপত্র আগুনে পুড়ে যায়।
নভেম্বরের ১৮ তারিখে নগদ ৬৯ হাজার টাকা এবং ১ ভরি ওজনের সোনা রোপা লুট করে নিয়ে যায়। ডাকাত শাহীনের বাহিনী মকছুদুর ও মফিজুুরের গোয়াল ঘরের ৭টি গরু নিয়ে যায়। প্রায় সাড়ে তিন লক্ষ টাকার ক্ষতি করে। তারা একসাথে ১২-১৩ টি ভারী অস্ত্র নিয়া ফাঁকা গুলি বর্ষণ করে এলাকায় ত্রাস সৃষ্টি করায় কেউ ভয়ে সামনে আসার সাহস পায় না।
এত বছর প্রশাসনের কাছে ঘুরলেও অভিযোগকারীরা কোন বিচার পেত না। যে কোন সময় প্রানে মারিয়া ফেলার আতংকে আছে তারা। এসব সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে দেশের প্রচলিত অনেক আদালতে বান্দরবান কক্সবাজার জেলায় মামলা থাকার পর আটক হলেও জামিনে মুক্তি পায়। তারা আবার বেপারোয়া হয়। তাদের বেশীদিন কারাগারে রাখা যায় না।
এ নিয়ে নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার অফিসার ইনচার্জ বরাবরে অভিযোগ করেছে সাইফুল ইসলাম ও রশিদা খাতুনের কন্যা রোকসানা নাসরিন খোরশেদ ১৫ জনের অধিক আসামীর নাম প্রকাশ করে এজাহার দায়ের করেছে। তার মধ্যে অন্যতম কুখ্যাত সন্ত্রাসী শাহীনসহ বাইশারী এলাকার নারিচবুনিয়া গ্রামের কাসিম আলীর পুত্র ফোরকান, বাইশারী এলাকার নারিচবুনিয়া গ্রামের পেটান আলীর পুত্র জসিম উদ্দিন, নুরুল হাকিমের পুত্র আজগর, আবদু ছালামের পুত্র সিরাজুল ইসলাম, কালাচানের পুত্র আব্দু ছালাম, ফোরকানের পুত্র ইয়াসিন আরাফাত, পেটান আলীর পুত্র সাহাব উদ্দিন, গর্জনীয়া ইউনিয়নের থোয়াইঙ্গ্যাকাটা এলাকার ইসলামের পুত্র জাহাঙ্গীর, মোঃ ইসলামের পুত্র রবি আলম, জাহাঙ্গীরের পুত্র সরোয়ার, আনোয়ার, নজরুলের পুত্র রিদুয়ান, জাফর আলম এর পুত্র নোমান, নুরুল হাকিমের পুত্র নবী আলম সহ আরো ৩০/৪০ জন।
রোকসানা নাসরিন খোরশেদ অভিযোগ করে যে, ডাকাত সর্দার শাহীনের দলের লোক তারা সীমান্ত সহ বাইশারী ও গর্জনীয়া এলাকায় তারা নানান অপরাধে সাথে জড়িত।
মকছুদুর রহমান ও মফিজুর রহমানকে ডাকাত দলের সাথে কাজ করাতে না পারায় তাদের উপর প্রতিনিয়ত হামলা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন। ডিসেম্বর মাসের ৪ তারিখে রাত সাড়ে নয়টায় বিভিন্ন অস্ত্র শস্ত্রে সজ্জিত হয়ে হামলা চালায়।
ঐ দিন রোকসানা বেগমের মা রাশিদা বেগম ও তার বোন মোহছেনা আক্তার ও তার ভাইয়ের বউ আনছারু বেগমকে বেধড়ক পিঠাইয়া রক্তাক্ত করে বলে যে মফিজের সন্ধান দিতে। রোকসানা বেগমের গলায় থাকা ১ভরি ওজনের স্বর্ণের চেইন কেড়ে নিয়ে যায়। টেবিলের উপর ব্যাগে থাকা ৩টি আংটি, ৭ জোড়া কানের দুল প্রায় সাড়ে ৪ লক্ষ টাকা মূল্যমানের ক্ষতি করে।
এদিকে নাইক্ষ্যংছড়ি থানার অফিসার ইনচার্জ মাশরুরুর হক এর সাথে এ বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, অতি দ্রæত আসামীদের আটকের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে। আসামীরা ঘটনার সাথে জড়িত থাকলে দেশের আইনের শাসন চলছে কারো পার পাওয়ার সুযোগ নাই বলে জানান।
Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.