ইসমাইলের রমণী যেন কালনাগিণী

খলিলুর রহমান নিজস্ব প্রতিনিধিঃ

দিন মজুরীতে তার পেটে মেলে এক মুঠো ভাত। বয়সের ভারে নুয়ে পরছে চলেনা আর জীবনের চাকা। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত ঘুরে জীবন বাঁচার তাগিদে কাজ কর্মেই ভরসা বাধে সংসারের। আর সেই সংসারে রমণী তার যেন কালনাগিণী হয়ে দারিয়েছে। এমনিই ঘটনা ঘটেছে রংপুরের তারাগঞ্জ উপজেলার সয়ার ইউনিয়নের দামোদরপুর গ্রামের মৃত কোনা শেখের ছেলে ইসমাইল শেখ (৫২) এর জীবনে।


জানা গেছে, সংসার জীবনের সঙ্গি হিসেবে ইসলামী শরিয়াহ মোতাবেক বিবাহে আবদ্ধ হন পার্শ্ববর্তী উপজেলা বদরগঞ্জের পাঠানেরহাট বালাপাড়া গ্রামের হাছেন আলীর মেয়ে হাছিনা বেগম (৪২) এর সঙ্গে প্রায় দুই যুগ পূর্বে। সংসার জীবনে তার একটি কন্যা সন্তানের জন্ম হয়। দিনের শেষে মজুরীর টাকা দিয়েই তার সেই সংসার কোন রকমে চলে। তারপরও সেই সংসারে লেগেই থাকে অভাবের টানাপোড়ন। পাশাপাশি ওই সংসার জীবনে তাদের ছোটখাটো ঝগড়া লেগেই থাকতো।

এই সমস্যার সমাধান মাঝে মধ্যে পারিবারিক মুড়–ব্বিরাই করতেন। এলাকার পাশাপাশি দেশান্তরে মজুরী দিতেন ইসমাইল শেখ। আর সংসারের হাল ধরে থাকতেন হাছিনা। এভাবেই দিনের শেষে শুখের ঘরে বাস করতেন সন্তান সহ দম্পত্তি। সংসার জীবনে সতীনের সন্তান থাকায় দিনে দিনে অশান্তি কলোহ বিবাধ বেড়েই চলে। ওই সময় প্রায় দেড় যুগ আগে স্বামীর অজান্তে বাবার বাড়ি বালাপাড়ায় হাঁস মুরগী ছাগল ও আসবাবপত্র সহ চলে যান হাছিনা।

গ্রামের লোকদের দিয়ে পাঠিয়েও কোন উপায় না পেয়ে ইসমাইল সয়ার ইউনিয়ন পরিষদে বিষয়টি অভিযোগ করেন। পরে সেখানে ওই সালিশে মিমাংশার বিষয়টি সত্যত্বা নিশ্চিত করেন সয়ার ইউপি সচিব এনামুল হক মন্ডল। এভাবেই চলে তাদের সংসার ও জীবন জীবিকা, দিয়ে দেন মেয়ের বিয়েও।

ইসমাইল শেখ অভিযোগ করে বলেন, গত ১৬ মে শনিবার আমি বাড়ির পাশে চিলাপাক বাজারে নিজের গাছ গাছড়া দিয়ে বানানো তৈল বিক্রি করতে যাই। গভীর রাতে বাড়িতে ফিরে দেখি আমার ছেলের ঘরে বাহির থেকে তালা লাগিয়ে দিছে। রাতের আধারে আমার সকল গরু ছাগল গহনা নগদ টাকা সহ জমির কাগজপত্র নিয়ে বাবার বাড়িতে চলে গেছে স্ত্রী হাছিনা বেগম।
কোন উপায় না পেয়ে আইনি সহায়তার জন্য ২৭মে বুধবার তারাগঞ্জ থানায় এ বিষয়ে একটি লিখিত অভিযোগ করি। তদন্ত করতে আসেন এসআই কামাল হোসেন ও গ্রাম পুলিশ নায়েব আলী, ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন এবং আশপাশের লোকজনের কাছে জিজ্ঞাসাবাদ করেন। পরে ফেরার পথে ইসমাইল শেখের কাছ থেকে এসআই কামাল হোসেনের কথা বলে দুই হাজার টাকা নেন নায়েব আলী।


ইসমাইল শেখ বলেন, ফোনে যোগাযোগ করে কথা বলেছি। আমার ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মমিনুর রহমান সহ গিয়ে দেখা করে আবারও দুই হাজার টাকা এসআই কামাল হোসেনকে দিয়েছি থানার গেটের সামনে। সপ্তাহ খানেক পরে আমাকে মিমাংশার কথা বলে থানায় ডাকেন। পরে থানায় গিয়েছি আর দেখা পাইনি, কোন মিটিং শালিস হয়নি। কিন্তু আমি থানায় আইনি প্রতিকার চেয়ে অভিযোগ করি,উল্টো আমাকে ১৫ই জুন তালাক নামার দেয়া ও ব্র্যাকের ছাগলের কাগজ আমার হাতে ধরিয়ে দেন নায়েব আলী। সয়ার ইউনিয়নের সকল অপরাধ আর অনিয়মের সিন্ডিকেট তৈরি করেছেন নায়েব আলী সেখানে সমাধান আসে শুধু টাকায়।

এসআই কামাল হোসেন বলেন, আমি পুরো বিষয়টি জেনেছি উভয়ের মধ্যে পারিবারিক সমস্যা রয়েছে। তবে গরু ও টাকা পয়সা সহ জমির কাগজ পত্রের ব্যাপারে প্রাথমিক ভাবে জানতে পেরেছি। কিন্তু টাকা নেয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে এরিয়ে যান। বলেন আপনারা তো সবই বুঝেন। এখনতো ওই ঘটনায় ২৫ই জুন থানায় একলক্ষ সত্তর হাজার টাকার মালামাল চুরির অপরাধে মামলা হয়েছে। পরে ওই ঘটনায় আরও দুই পক্ষেই একাধিক মামলা করছেন, এদের জ্বালায় বাছিনা।

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.