- সরিষাবাড়ীতে যুবদল নেতার দাপটে গাছ কর্তন ও বাউন্ডারি ভাঙচুরের অভিযোগ - April 16, 2026
- সরকারি অবহেলায় বিপন্ন জনস্বাস্থ্য জলাতঙ্কের টিকা নিশ্চিত করুন - April 16, 2026
- টাঙ্গাইলের মধুপুরে ‘বি নিউজ মিডিয়া’র পঞ্চম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত - April 11, 2026


ব্যর্থতার গ্লানি নিয়ে ফিরে যেতে নয়, স্বপ্ন বাস্তবায়ন করতে সংসদ সদস্য পদ ছেড়ে চ্যালেঞ্জ নিয়ে দক্ষিন সিটি করপোরেশনে নির্বাচন করতে আসার কথা জানিয়েছেন আওয়ামী লীগ মনোনিত মেয়র প্রার্থী শেখ ফজলে নূর তাপস।
বুধবার বিকালে পুরান ঢাকার কারা কনভেনশন হলে ‘সম্মিলিত ব্যবসায়ী পরিষদের- ব্যবসায়ী সম্মেলন ২০২০” অনুষ্ঠানে ব্যবসায়ীদের দাবির প্রসঙ্গ টেনে তিনি এ কথা বলেন।
তাপস বলেন, “আমি নিজেও একজন ব্যবসায়ী, ব্যবসায়ীদের সমস্যা আমি অনুধবন করতে পারি। একজন ব্যবসায়ী কি চিন্তা চেতনা করেন এবং তার দৈনন্দিন কি চিন্তা চেতনা থাকে, কি সমস্যা থাকে সেটা আমি অনুধাবন করি।
“সুতরাং এটুকু আপনাদের আমি বলি, আমার কাছে কোন জাদুর কাঠি, কিংবা কোন জাদুর টুপিও নেই। আমি একজন বাস্তব ভিক্তিক ব্যক্তি। ছোটকাল থেকেই নিরলস পরিশ্রম, একাগ্রতা সততা দিয়ে এই পর্যন্ত এসেছি। আপনাদের কোন জাদুকরী স্বপ্ন দেখাব না, দেখাইও নাই। আমার দেওয়া পাঁচটি ধাপের মধ্যে কোন স্বপ্ন নেই। পঞ্চমের বাস্তবতা আছে। আমি এটুকু বলতে পারি, ঢাকা দক্ষিন সিটি করপোরেশন হবে একটা বাস্তব ব্যবসায়ীদের সেবা প্রধানকারী প্রতিষ্ঠান।”
“ট্রেড লাইসেন্স এমন কোন বিষয় না যে, এর জন্য নয় মাস, ছয় মাস ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের অপেক্ষা করতে হবে। ট্রেড লাইসেন্সের যে কোন সিদ্ধান্ত পাঁচ কর্ম দিবসের মধ্যে নিশ্পত্তি করা হবে।”
ব্যবসায়ীদের জন্য দক্ষিন সিটি করপোরেশনে হেল্প ডেক্স করা হবে জানিয়ে ফজলে নূর তাপস বলেন, “আমি নির্বাচিত হতে পারলে, আমরা দক্ষিন সিটি করপোরেশনের জন্য ব্যবসায়ীক হেল্প ডেক্স করবো। সেই ডেক্স থেকে দৈনন্দিনের ভিক্তিতে সেবা নিশ্চিত করা হবে। সকল সেবাগুলোকে অনলাইন ব্যবস্থার মধ্যে আনা হবে। এমন কি মোবাইল এ্যপের মাধ্যমে সমস্যা সমাধান করতে পারবো। আইন গত ভাবে এই একটা(সিটি করপোরেশন) সেবা প্রধানকারী প্রতিষ্ঠান, যা ঢাকাবাসীর জন্য প্রতিষ্ঠিত। সুতরাং আমরা ঢাকাবাসীর চিন্তা করে সেবাগুলো নিশ্চিত করবো।”
ব্যবসায়ীসহ ঢাবাবাসীর সকল সমস্যা সমাধানের জনই সংসদ সদস্য পদ ছাড়ার চ্যালেঞ্জ গ্রহন করেছেন জানিয়ে শেখ ফজলে নূর তাপস বলেন, “আমার যারা শুভাকাঙ্খি, আমাকে যারা বিভিন্ন সময় পরামর্শ দিয়ে থাকেন, তারা আমাকে এই পথে পা দিতে না করেছিল । অনেকে বলেছেন এই পথ রাজনৈতিক ভাবে হয়ত ভুল পথে পা বাড়ানো হবে। একজন রাজনীতিকের জন্য সংসদ সদস্য হলো রাজনীতির মূল স্রোতের একটি বড় অংশ। এই কাজটি যেটা মেয়র হিসেবে দায়িত্ব সেটা মূল স্রোতের বাইরে বলে ধরে নেওয়া হয়।
“এছাড়া এত সমস্যা জর্জরিত সংকট সেটাকে পরিবর্তন করা আদৌ সম্বব? নাকি বদনাম বা ব্যর্থতা নিয়ে ফিরে যেতে হলে হবে।বদনাম বা ব্যর্থতা নিয়ে ফিরে যেতে হলে রাজনৈতিক ভাবে বুমেরাং হবে। তাদের সঙ্গে আলাপ করেছি পরবর্তিতে যখন দেখলো আমার সিদ্ধান্ত অনড়। তখন তারাও উপলব্ধি করতে পেরেছে, কারণ আমার উপর তাদের আস্থা আছে। আমি যখন সিদ্ধান্ত নেই তখন বুঝে শুনেই নেই, পারবো বলেই নেই।”
“সুতরাং সেই আস্থা তারা আমার উপর রেখেছে। সর্বোপরি সংসদ সদস্য পথ থেকে যখন পদত্যাগ করালাম, জীবনের একটা বড় প্রাপ্তি যখন ছেড়ে দিলাম। তার আগের রাতে চিন্তার সময় সবচেয়ে বড় গুরুত্বপূর্ণ চিন্তাটাই ছিল এটা যে, হারাব না অর্জন করবো, ব্যর্থতা না সফলাতা, স্বপ্ন বাস্তবায়ন না ব্যর্থতায় পর্যবসিত একটি জীবন।”
“সংসদ সদস্য পদ থেকে যখন পদত্যাগ পত্র দিয়েছি তখন এই চ্যালেঞ্চ নিয়েই পদত্যাগ করেছি। ব্যর্থতার গ্লানি নিয়ে ফিরে যাওয়ার জন্য সংসদ সদস্য পদ থেকে পদত্যাগ করিনি। সুতরাং এই তালিকা( ব্যবসায়ীদের দেওয়া ২৮ সমস্যার তালিকা) তেমন কোন বিষয় না।”
ব্যবসায়ীদের দেওয়া ২৮ সমস্যা সমাধানে তাপস বিচলিত নয় জানিয়ে বলেন, “আমরা বহির্বিশ্ব থেকে যখন ফিরে আসি আমাদের মনটা খারাপ হয়ে যায়, কবে হবে সে রকম। আদৌ কি এরকম পারবে? এমন অনেক প্রশ্ন নিয়ে আমাদের চলতে হয়। অনেকে অনিশ্চয়তার জন্য নতুন প্রজন্মের সন্তানদের জন্য আমরা মেন করি বাইরে কোথায় পাঠিয়ে দিলে হয়তবা ভালো হবে।
“এটা কেন করবো আমরা, আমরাতো এই মাটিতেই বড় হয়েছি। আমি অন্তত পক্ষে চাই আমার সন্তানেরা এই মাটিতেই জীবন যাপন করুক। এমটাই যদি করতে হয় তাহলে শুরুটা তো করতে হবে। সেই উন্নত ঢাকা গড়ার লক্ষে যদি কাজ শুরু করতে হয়। তাহলে আমি মনে করি আগামী পহেলা ফেব্রয়ারী ২০২০ আমাদের সেই নব সুচনা সব যাত্রা করার সবচেয়ে গুরুত্ব দিন।
“আমাকে তালিকা দেয়া হয়েছে ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্ধের কিছু মতামত নেয়া হয়েছে। এখানে মাত্র ২৮টি সমস্যার কথা বলা হয়েছে। আমি বিচলিত নই। আমি ভেবেছিলাম ২৮শত সমস্যা হয়তবা দিবে।”

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.