- সরিষাবাড়ীতে যুবদল নেতার দাপটে গাছ কর্তন ও বাউন্ডারি ভাঙচুরের অভিযোগ - April 16, 2026
- সরকারি অবহেলায় বিপন্ন জনস্বাস্থ্য জলাতঙ্কের টিকা নিশ্চিত করুন - April 16, 2026
- টাঙ্গাইলের মধুপুরে ‘বি নিউজ মিডিয়া’র পঞ্চম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত - April 11, 2026

স্টাফ রিপোর্টার বগুড়া অফিস ঃ বগুড়ার শেরপুর উপজেলার গাড়ীদহ ইউনিয়নের নিশিপাড়া এলাকায় এক অসহায় বিধবা নারীর বসতবাড়ীতে ভূমিদস্যুদের হামলায় ভাংচুর, মারপিট ও নগদ টাকা লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, রণবীর বালা ঘাটপার নিশিপাড়ায় বসবাসকারী অসহায় বিধবা নারী সাবিত্রী দাসের বসতবাড়ি, ঘর সহ ব্যবহৃত আসবাবপত্র এবং পানির কল ও ল্যাট্রিন পর্যন্ত ভেঙ্গে চুড়ে সেখানে রাধাগোবিন্দের মূর্তি স্থাপন করেছে।
অনুসন্ধানে জানা যায়, উক্ত জায়গার মালিক মৃত মুকুন্দ ঋষি। রণবীর বালা মৌজার সাবেক-৯৮, হাল-১৫৯ নং দাগের সম্পত্তি মুকুন্দ ঋষি ১০১ সিএস মূলে মালিক থাকা অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন এবং কোনো পুত্র সন্তান না থাকায় তাহার ত্যাক্ত সম্পত্তি মেয়ে পূর্ণদাসী ও তার স্বামী নিতাই ঋষির নামে এম আর আর ৭৭ নং খতিয়ানে নথিভুক্ত হয় এবং বংশানুক্রমে বতর্মানে রবিন দাস ও তার বিধবা ভাতিজি সাবিত্রী তার দুই এতিম ছেলেকে নিয়ে ভোগ দখল করে আসছে।
কিন্তু রবিন চন্দ্র দাস এবং তার ভাতিজি সাবিত্রী অসহায়, গরীব হওয়ায়, মৃত কমোদ চন্দ্র দাসের ছেলে ভূমিদস্যু দখলবাজ শ্রী বিশ্বনাথ দাস ওরফে বিশার কূ-দৃষ্টি পড়ে ঐ জায়গার উপর। লোভের বশবর্তী হয়ে ২০১৭ ইং সালে বগুড়া অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ১৭২নং মোকদ্দমায় বাদী হয়ে মামলা করে। মামলা চলাকালে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট প্রয়োজনীয় নথিপত্র হাজির করার আদেশ জারি করলে ভূমিদস্যু শ্রী বিশ্বনাথ দাস ওরফে বিশা আদালতে বৈধ নথিপত্র হাজির করতে ব্যর্থ হয় এবং মামলায় হেরে যাওয়ার আশঙ্কায় স্ব-ইচ্ছায় ১লা জুলাই ২০১৮ইং তারিখে মামলা তুলে নেয়। পরবর্তীতে ঐ মামলার ৯নং সাক্ষী একই এলাকার শ্রী খগেন চন্দ্র দাসের ছেলে শ্রী সুভাষ চন্দ্র দাসকে দিয়ে শেরপুর থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করে। কিন্তু ভূমিদস্যু বিশ্বনাথ এবং সুভাষচন্দ্র নথিপত্রের অভাবে কোন সুরাহা না পেয়ে জমির প্রকৃত মালিক রবিন চন্দ্র দাসকে এবং সাবিত্রীকে বিভিন্ন সময় বিভিন্নভাবে ভয়-ভীতি সহ হুমকি দিয়ে আসছিল। এরই প্রেক্ষিতে বেশ কয়েক দফায় এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গের উপস্থিতিতে সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয়।
অবশেষে এলাকার ভূমিদস্যু দখলবাজ খ্যাত শ্রী বিশ্বনাথ ওরফে বিশা ঐ সম্পত্তি তার নিজের বলে দাবী করে। ৩০শে আগষ্ট ২০১৯ইং সালে দুপুরে রাধাগোবিন্দ মন্দিরের নাম করে এলাকার কিছু ধর্মভীরু এবং টাউট-বাটপারদের নিয়ে দেশীয় অস্ত্র রামদা, শাবল, লাঠি-সোঠা নিয়ে ঘরবাড়ী ভাংচুর করে জবরদস্তি করে রাধাগোবিন্দ মূর্তি স্থাপন করে। রবিন চন্দ্র এবং সাবিত্রী মূর্তি স্থাপনের বাঁধা দেওয়ায় তাদের মারপিট করে এবং অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে এমনকি এলাকা ছেড়ে চলে যাওয়ার হুমকী দেয়। না গেলে তাদের প্রাণে মেরে ফেলা হবে বলেও শাসায়। এ সময় সাবিত্রীর ঘরে রক্ষিত ছেলের শ্বশুর বাড়ী হতে পাওয়া ৪০ হাজার টাকা ও সমিতি থেকে উত্তোলন করা ৫০ হাজার টাকাসহ মোট ৯০ হাজার টাকা লুট করে নিয়ে যায় বলে জানিয়েছেন ভূক্তভোগী সাবিত্রী। ঘরবাড়ী ভাংচুর এবং টাকা লুট করে নিয়ে যাওয়ার কারণে রবিন চন্দ্রের পরিবার এবং সাবিত্রীর পরিবার নিঃস্ব হয়ে পড়েছে বলে তাদের দাবী। এক প্রশ্নের জবাবে সাবিত্রী বলেন আমি থানায় অভিযোগ দিয়েছি।
এসময় এলাকার লোকজনের সঙ্গে কথা বললে, নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন ব্যক্তি বলেন বিশ্বনাথ ওরফে বিশা শুধু এদের জমি নয় গ্রামের অনেকের জমি জোর করে দখল করে নিয়েছে। শুধু তাই নয়, অনেক চিটিং, বাটপারি করে লক্ষ লক্ষ টাকা অসহায় মানুষদের কাছ থেকে বিভিন্নভাবে ভয়-ভীতি দেখিয়ে হাতিয়ে নিয়েছে।
এবিষয়ে জানতে বিশ্বনাথ দাস ওরফে বিশার মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করলে তিনি বলেন, আমার যা বলার আমি থানায় বলবো।
এ বিষয়ে ঘটনাস্থল তদন্তকারী কর্মকর্তা এস, আই আব্দুল গফুরের মোবাইল ফোনে জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেন, ঘটনাস্থলে গিয়ে ভাংচুরের সত্যতা পেয়েছি এবং পরিস্থিতি শান্ত করে উভয় পক্ষকে সঠিক কাগজ পত্র নিয়ে থানায় আসতে বলেছি।

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.